The Dictatorship of the Proletariat

পুঁজিবাদী সমাজের বিপ্লবাত্মক রূপান্তরের প্রাথমিক শর্ত  এবং প্রথম পদক্ষেপ হিসাবে শ্রমিক শ্রেণীকে সারা পৃথিবী জুড়ে রাজনৈতিক ক্ষমতা দখল করতে হবে অর্থাৎ প্রথমতঃ সারা দুনিয়ার সমস্ত বুজোর্য়া রাষ্ট্রযন্ত্রকে সম্পূণরূপে ধ্বংস করতে হবে ।  

রায্ট্রযন্ত্রের সাহায্যেই বুজোর্য়ারা সমাজের উপর আধিপত্য বজায় রাখে , বিশেযাধিকার ভোগ করে এবং অন্যান্য শ্রেণীর বিশেষ করে শ্রমিকশ্রেণির শোযণ চালায় বলে অবশ্যম্ভাবী রূপেই  এইসব কাজের উপযোগী করেই গড়ে তোলা হয়েছে এই যন্ত্রটিকে । আর তাই কোনরকম বিশেষাধিকার বজায় রাখা বা শোষণ চালাবার কোন প্রয়োজন নেই বলে শ্রমিক শ্রেণী এই রাষ্ট্রযন্ত্রটিকে ব্যবহার করতে পারেনা । এর তাৎপরয হচ্ছে এই যে , ‘সমাজতন্ত্রে পৌঁছনোর কোনো শান্তিপূর্ণ রাস্তা' নেই অল্পসংখ্যক শৌষকের বেশি বেশি সুপরিকল্পিত ,খোলাখুলি বা ভন্ডামিভরা হিংসার বিরুদ্ধে শ্রেণীহিংসারই ব্যবহার শুধু করতে পারে শ্রমিকশ্রেণী । ।

অর্থনৈতিক রূপান্তরের হাতিয়ার হসেবে শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্বের (অর্থাৎ যখন শ্রমিকশ্রেণীই হচ্ছে রাজনৈতিক ক্ষমতার একচ্ছত্র অধিকারী ) মূল কাজ হবে উৎপাদনের উপকরণ গুলোর সামাজিকীকরনের মাধ্যমে শোষকশ্রেণীকে দখলচ্যুত করা এবং সমস্ত উৎপাদনমূলক কাজকর্মে এই সামাজিকীকৃত ক্ষেত্রকে ক্রমাগত প্রসারিত করা । রাজনৈতিক ক্ষমতার উপর একচ্ছত্র অধিকারের ভিত্তিতে , মজুরিশ্রম(wage labour) ও পণ্য উৎপাদনের অবসান ও মানবসমাজের প্রয়োজন মেটাবার উদ্দেশ্যে পরিচালিত অর্থনৈতিক কর্মসূচি রূপায়নের মাধ্যমে , বুজোর্য়াদের রাজনৈতিক অর্থনীতির (political economy) বিরুদ্ধে আক্রমন চালাতে হবে শ্রমিকশ্রেণীকে । 

পুঁজিবাদ থেকে সাম্যবাদে উত্তরণের উৎক্রমণকালে (Period of transition) শ্রমিকশ্রেণী ছাড়াও অ-শোষক (non -exploiting) অন্যান্য শ্রেণি এবং সামাজিক স্তর থেকে যাবে । অর্থনীতির অ-সামাজিকীকৃত (non-socialized) ক্ষেত্রটাই হচ্ছে এদের টিকে থাকার ভিত্তি । সেজন্য সমাজব্যবস্থার মধ্যে পরস্পরবিরোধী অর্থনৈতিক স্বার্থের অনিবারয সংঘাতের প্রতিফলন ইসেবে তখন ও চলতে থাকবে শ্রেণীসংগ্রাম । এই পরিস্থিতি জন্ম দেবে একটি রাষ্ট্রের । এইসব দ্বন্দ্ব বিরোধ যাতে সমস্ত সমাজকেই ছিন্নভিন্ন ও ধ্বংস করতে না পারে , সেটা সুনিশ্চিত করাই হবে এর কাজ । কিন্তু সামাজিকীকৃত ক্ষেত্রের মধ্যে এইসব শ্রেণির সদস্যদের বেশি বেশি করে অর্ন্তভুক্তি এবং ফলে শ্রেণী গুলোর কখমাগত অদৃশ্য হয়ে পড়ার প্রক্রিয়া চলতে থাকে এবং শেষপরযন্ত শ্রেণী বিভাজনের সম্পূর্ণ অবলুপ্তি ঘটে  আর তারই সাথে শেষ হয়ে যেতে হবে স্বয়ং রাষ্ট্রকেও ।

ওয়াকারর্স কাউন্সিলের (worker's council) রূপই (form) হচ্ছে শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্বের ঐতিহাসিকভাবে আবিষ্কৃত রূপ । এগুলো হল শ্রমিকদের সাধারণ সভা দ্বারা নিবার্চিত এবং যে কোন সময়ে প্রত্যাহারযোগ্য (revocable) প্রতিনিধিদের দিয়ে গঠিত ঐক্যমূলক (Unitary) , কেন্দ্রীয় পদ্ধতিতে পরিচালিত (centralized) , শ্রেণী ব্যাপী মজদুর পরিষদ (class wide assembly) । এইভাবে গোটা শ্রণীটা সত্যিকারের সামূহিক পদ্ধতিতে রাজনৈতিক ক্ষমতা প্রয়োগ করতে সমর্থ হয় । আস্ত্রশস্ত্রের উপর সম্পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ শুধু কাউন্সিলগুলোর হাতেই থাকবে  আর এটাই হবে শ্রমিকশ্রেণির একচ্ছত্র রানৈতিক ক্ষমতার (exclusive political power) গ্যারান্টি । 

শ্রমিক সমুদায়ের সমগ্রটাই কেবল আর্থ-রাজনীতিক ও সামাজিক ক্ষেত্রে সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করবে । সমাজের কমিউনিষ্ট রূপান্তর ঘটাতে হলে এটা অপরিহারয । এই জন্যই অতীতের বিপ্লবী শ্রেণীগুলির ক্রিয়াকলাপের বিপরীতে , বিপ্লবী অগ্রগামী বাহিনীসহ যেকোন সংখ্যালঘু অংশ বা প্রতিষ্ঠানের হাতে কোন নিয়ন্ত্রণ ক্ষমতা ছেড়ে দিতে পারেনা শ্রমিকশ্রেণি । সংখ্যালঘু অগ্রগামী বাহিনী worker's council এর ভিতর সমস্ত কাজকর্মে ও সিদ্ধান্ত গ্রহণের প্রক্রিয়ায় সক্রিব অংশগ্রহণ করবে ঠিকই , কিন্তু এই অগ্রগামী সংগঠন বা কমিউনিষ্ট পার্টি কখনোই সমগ্র শ্রেণীর ঐক্যমূলক সংগঠন অর্থাৎ কাউন্সিলগুলোকে প্রতিস্থাপিত করতে পারেনা । শ্রমিকশ্রেণীর ঐতিহাসিক লক্ষ্য অর্জনের পথে এটা অপরিহারয ।  

একই ভাবে রাশিয়ার বিপ্লবের অভিজ্ঞতা , সংক্রমনকালীন পরযায়ে (period of transition) রাষ্ট্র ব্যবস্থা এবং শ্রমিকশ্রেনীর মধ্যেকার সম্পর্কের জটিলতা ও গুরুত্বের বিষয়টাকেও বেশ জোরালো ভাবে তুলে ধরেছে । আগামী দিনে শ্রমিকশ্রেণি এবং বিপ্লবীরা এই সমস্যাকে এড়িয়ে যেতে তো পারবেনই না বরং তার সমাধানের সমস্ত রকম চেষ্টাই তাঁদের অতি অবশ্যই করতে হবে । 

প্রলেতারীয় একনায়কত্বের অর্থ হচ্ছে , যে কোন বাহ্যিক শক্তির অধীনতা মেনে নেওয়ার ধারণা এবং শ্রমিকশ্রেণীর বিভিন্ন অংশের মধ্যে হিংসার সম্পর্কেরও সম্পূর্ণ প্রত্যাখ্যান । সংক্রমনকালীন পরযায় জুড়ে , শ্রমিকশ্রেণীই হচ্ছে সমাজের একমাত্র বিপ্লবী শ্রেনী । শ্রেণী সচেতনতা এবং সংঘবদ্ধতাই (cohesion) হচ্ছে শ্রমিকশ্রেণীর একনায়কত্বকে কমিউনিজমের পরিণতির লক্ষ্যে নিয়ে যাবার অত্যাবশ্যক গ্যারান্টি।