Frontism: a strategy for derailing the proletariat

পুঁজির পতনশীলতার  যুগে একমাত্র প্রলেতারীয় বিপ্লবই ঐতিহাসিকভাবে প্রগতিশীল হওয়ায় , ‘প্রগতিশীল' ‘গণতান্ত্রিক' অথবা ‘জনপ্রিয়' (Popular) হওয়ার দাবিদার , শাসকশ্রেণীর কোন অংশের সঙ্গেই বিপ্লবী শ্রেণির মুহূর্তের জন্যও কোনরকম মিলিত কর্মসূচির কোন প্রশ্নই উঠতে পারেনা । পুঁজির উথ্থানের যুগের সম্পূর্ণ বিপরীতে, পতনশীল অবস্থায় বুজোর্য়া শ্রেণির যেকোন অংশের কোন রকম প্রগতিশীল ভূমিকা হয়ে পড়ে একদম অসম্ভব । বিশেষ করে ঊনবিংশ শতাব্দীতে সামন্ততন্ত্রের অবশেষের পটভূমিতে প্রগতিশীল, বুজোর্য়া গনতন্ত্রের  রাজনৈতিক ব্যবস্থার আসল যা কিছু সারপদার্থ, তা নিঃশেষ হয়ে গেছে পুঁজির পতনশীল পযায়ে। বুর্জোয়া গণতন্ত্র শুধু রাষ্ট্রের সবর্গ্রাসী ক্ষমতাবৃদ্ধিকে (Strengthening of the totalitarian power of the state) আড়াল করার প্রতারণা মূলক আবরনের ভূমিকাই পালন করে এবং বুজোর্য়াদের  গণতন্ত্রের পূজারী অংশটা অবশিষ্ট অংশের মতো একই রকম প্রতিক্রিয়াশীল। 

প্রথম মহাযুদ্ধের সময় থেকে শ্রমিকশ্রেণীর বিরুদ্ধে ব্যবহৃত সব থেকে  বেশি দূরভিসন্ধিমুলক ও ক্ষতিকারক আফিমগুলোর অন্যতম হিসেবে ‘গণতন্ত্র' নিজেকে উপস্থাপিত করেছে। গণতন্ত্রের দোহাই দিয়েই যুদ্ধের পর ইউরোপের বেশ কয়েকটি দেশের শ্রমিকশ্রেণীর বিপ্লবী অভ্যুথ্থান চূর্ণ-বিচূর্ণ করা হয়েছিল। ‘ফ্যাসিজমের' বিরুদ্ধে গণতন্ত্রের কথা বলেই লক্ষ লক্ষ শ্রমিককে দ্বিতীয় সাম্রাজ্যবাদী মহাযুদ্ধে সামিল হতে প্ররোচিত করা হয়েছিল। গণতন্ত্রের নামেই আজ আবার একবার পুঁজির প্রবক্তারা শ্রমিকশ্রেণীর সংগ্রামকে শ্রেণী লাইন থেকে বিচ্যূত ক'রে ‘ফ্যাসিজম', ‘প্রতিক্রিয়াশীল শক্তি', ‘দমনপীড়ণ', সবর্গ্রাসী রাষ্ট্র ও শাসনতন্ত্র, (totalitarianism) ইত্যাদির বিরুদ্ধে সংষুক্ত মোর্চা (United front)-র প্রতিবিপ্লবী লাইনে নিয়ে আসার প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

ফ্যাসিবাদ হ'ল ইতিহাসের একটি পযার্য়ের বিশেষ ফসল যখন ইতোমধ্যে শ্রমিকশ্রেণি চূড়ান্তভাবে পরাজিত এবং পযুর্দস্ত।  বতর্মানে ‘ফ্যাসিবাদ' বিকাশের সেই ঐতিহাসিক এবং বস্তুগত পরিস্থিতি নেই; সুতরাং, ‘ফ্যাসিজমের বিপদ' সম্বন্ধে সমস্ত প্রচারাভিযান নিছক বিভ্রান্তি ছড়ানোর প্রচেষ্টা ছাড়া আর কিছুই নয়।  আরো একটা ব্যাপার হচ্ছে এই যে, দমনপীড়নের monopoly বা একাধিকার যে শুধু ফ্যাসিবাদেরই আছে ,তা নয় । গণতান্ত্রিক ও বামপন্থী রাজনৈতিক ধারার প্রবক্তারা নিজেরাই   যে   শ্রমিকশ্রেণীর ওপর সুপরিকল্পিত ভাবে দমনপীড়ণ চালিয়ে  থাকে এবং বিপ্লবী শ্রমিক আন্দোলন পরযুদস্ত করার প্রতিবিপ্লবী কর্মকান্ডে সবথেকে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা সবসময় ওরাই  যে পালন করছে --- এই সত্যকে  আড়াল করার জন্যই ওরা ফ্যাসিজম আর দমনপীড়ণকে এক করে দেখায়।

‘জনপ্রিয় মোর্চা' (Popular Fronts) এবং ‘ফ্যাসিবিরোধী ফ্রন্টের'(anti-fascist front ) মতোই ‘সংযুক্ত মোর্চার' (United Fronts) রণকৌশলও যে শ্রমিকশ্রেণীর সংগ্রামকে শ্রেণী লাইন থেকে বিচ্যুত করারই  গুরুত্বপূর্ণ একটা হাতিয়ার তা প্রমানিত হয়েছে । "শ্রমিক সমুদায় থেকে বিচ্ছিন্ন করা এবং মুখোশ খুলে দেবার উদ্দেশ্যে , তথাকথিত "workers parties" বা শ্রমিক দলগুলির সঙ্গে বিপ্লবী সংগঠনের সংযুক্ত মোর্চা গ'ড়ে তোলার" রণকৌশল আসলে ঐসব বুজোর্য়া পার্টির প্রকৃত চরিত্রটা বোঝার ক্ষেত্রেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে,  ঐসব পার্টির ওপর  ‘প্রলেতারীয়' চরিত্রের মুখোশই পরায়  আর তাই  ঐসব দল থেকে শ্রমিকশ্রেণীর সম্পূর্ণ বিচ্ছেদকে বিলম্বিতই করে। 

বিপ্লবের অভিমুখে শ্রেণী সংগ্রামের বিস্তারের প্রথম পূবর্শর্ত সমাজের অন্যসব শ্রেণির অবস্থানের পরিপ্রেক্ষিতে প্রলেতারীয়েতের শ্রেণি স্বাতন্ত্র্যের নীতি।   অন্যান্য শ্রেণি বা স্তরের সঙ্গে, বিশেষ ক'রে বুজোর্য়াদের বিভিন্ন গোষ্ঠীর সঙ্গে সংষুক্ত মোর্চার কর্মসূচি , শ্রেণি-লাইন পরিত্যাগ করার পথে চালিত ক'রে শ্রেণিশত্রুর আক্রমনের মুখে শ্রমিকশ্রেণিকে কেবল নিরস্ত্রই করে, কারণ শুধুমাত্র শ্রেণিলাইন দৃঢ়ভাবে আঁকড়ে ধরেই   সে ইস্পাতের মত মজবুত শক্তির অধিকারী হয়ে উঠতে পারে । এই শ্রেণি লাইন পরিত্যাগ করার পরামর্শ বা প্ররোচনা দাতা যেকোন রাজনৈতিক প্রবণতা সরাসরি বুজোর্য়া স্বার্থেরই সেবা করে থাকে।