১. বর্তমান সামাজিক আন্দোলন বিশ্বব্যাপী এবং ঐতিহাসিক গুরুত্ব বহন করছে। ‘জেন জেড’ দেখিয়ে দিচ্ছে যে তারা পুঁজিবাদ সমগ্র মানবজাতির জন্য যে দুর্দশা ও যুদ্ধের ভবিষ্যৎ তৈরি করছে, তা মেনে নিতে রাজি নয়। ফ্রান্সের এই আন্দোলন আন্তর্জাতিক পরিসরে একটি ‘দৃষ্টান্তে’ পরিণত হয়েছে: বেলজিয়াম, জার্মানি, ইতালি, স্পেন, গ্রিস এবং চিলিতে এর প্রতিধ্বনি শোনা যাচ্ছে। মাত্র কয়েক দিনের মধ্যেই (সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের মাধ্যমে) ইউরোপের নানা প্রান্ত থেকে পুলিশি রাষ্ট্রের নির্মম দমনের মুখে দাঁড়ানো শিক্ষার্থীদের প্রতি সংহতির বার্তা আসতে শুরু করেছে। এই দমনপীড়ন এতটাই চরম যে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী লরঁ নুনিয়েজ নিজেই একে “নিয়ন্ত্রণহীন” বলে আখ্যা দিয়েছেন। এসব বার্তার একটিই মূল কথা: “তোমাদের সংগ্রাম আমাদেরও সংগ্রাম! আমরা সর্বত্র একই সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি!”
২. বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর বহু সাধারণ সভা রেলস্টেশন এবং অন্যান্য কর্মস্থলে লিফলেট বিতরণের সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যাতে সব শ্রমিককে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানানো যায়। যে আন্দোলন ছড়িয়ে পড়ে না, সে আন্দোলন শেষ পর্যন্ত নিভে যায়! ১৯৬৮ সালের মে আন্দোলন ইতিহাস সৃষ্টি করেছিল, কারণ শিক্ষার্থীদের পর শ্রমিকেরাও সংগ্রামে যোগ দিয়েছিল। মে ’৬৮ মানে ছিল এক কোটি ধর্মঘটী শ্রমিকের অভূতপূর্ব অংশগ্রহণ।
৩. তাই আমাদের প্রতিটি পদক্ষেপের লক্ষ্য হতে হবে আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করা। ১৩ অক্টোবর মাতিনিওঁমুখী পদযাত্রা করে সেটি ‘দখল’ করার আহ্বান কি এই গতি ও বিস্তারকে শক্তিশালী করবে? না। সরকারের আসনকে ঘিরে রাখা, অবরুদ্ধ করা এবং সুরক্ষিত করার জন্য রাষ্ট্রের সমস্ত দমনমূলক শক্তি মোতায়েন করা হবে। এটি একটি ফাঁদ, একটি অচল পথ। তার বদলে, যদি আমরা বিপুল সংখ্যায় শ্রমিকশ্রেণির মহল্লাগুলোর দিকে অগ্রসর হই, তাহলে কি আন্দোলনকে আরও বিস্তৃত করা সহজ হবে না? আমাদের সংখ্যা বাড়ানো কি সম্ভব হবে না? ক্রমশ আরও বেশি অংশকে কি বোঝানো যাবে না যে এই সংগ্রাম পুরো শ্রমিকশ্রেণির সংগ্রাম? স্কুলপড়ুয়া, শিক্ষার্থী, চাকরিজীবী, বেকার এবং অবসরপ্রাপ্তরা যদি এক সংগ্রামে ঐক্যবদ্ধ হয়! এটা সম্ভব! তাদের কাছে পৌঁছে যাওয়া এবং এই আন্দোলনে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানানো আমাদেরই দায়িত্ব।
৪. এসব সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য এবং সংগ্রামের সবচেয়ে কার্যকর পদ্ধতিগুলো নিয়ে একসঙ্গে চিন্তা-ভাবনা করার জন্য আমাদের উন্মুক্ত সাধারণ সভাগুলোকে রক্ষা করতে হবে। এসব সভা শিক্ষার্থী, বেকার, অনিশ্চিত কর্মসংস্থানে থাকা শ্রমিক, কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত কর্মচারী, সরকারি ও বেসরকারি উভয় সেক্টরের শ্রমজীবী মানুষের জন্য উন্মুক্ত হতে হবে। স্বশাসিত, সুসংগঠিত সাধারণ সভা, যেখানে ভোটাভুটি হবে এবং প্রতিনিধিদের নির্দিষ্ট দায়িত্ব অর্পণ করা হবে। এমন সাধারণ সভা, যা অন্যান্য সাধারণ সভার সঙ্গে ঐক্য গড়ে তুলতে সক্ষম এবং নিকটবর্তী কর্মস্থলগুলোতে বড় প্রতিনিধিদল পাঠিয়ে কর্মীদের এই আন্দোলনে যোগ দিতে উদ্বুদ্ধ করতে পারে। ২০০৬ সালে ‘প্রথম কর্মসংস্থান চুক্তি’ (CPE)-র বিরুদ্ধে আন্দোলনের সময়, যা তরুণ শ্রমিকদের অনিশ্চয়তাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছিল, এই সাধারণ সভাগুলোই ছিল আন্দোলনের প্রাণশক্তি। আর আন্দোলনের এই বিস্তারের গতিশক্তিই সরকারকে তাদের বিল প্রত্যাহার করতে বাধ্য করেছিল। আজ আমরা আরও অনেক দূর এগিয়ে যেতে পারি!
ভবিষ্যৎ শ্রেণিসংগ্রামেরই!
আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট কারেন্ট
১০ অক্টোবর ২০২৬
Source: https://en.internationalism.org/content/17860/appeal-high-school-and-university-student-movement-throughout-france