কোভিডের মোকাবিলায় এক বছরের অবহেলা: পুঁজিবাদই হন্তারক!

এপ্রিল মাসের শুরু থেকেই পৃথিবীর চারিদিকে কোভিড-১৯ দ্রুত গতিতে ছড়িয়ে পড়েছে। দু হাজার কুড়ির নভেম্বর মাস থেকে সারা বিশ্বে কোভিড এর আরো ভয়ংকর হয়ে ওঠার যাত্রা অব্যাহত রয়েছে। ইউরোপের অবস্থার কিছুটা উন্নতি এবং আমেরিকা তার ভয়ংকর অবস্থা কিছুটা কাটিয়ে উঠলে ও ল্যাটিন আমেরিকা এবং ভারতীয় উপমহাদেশ এই মুহূর্তে সংক্রমণের শীর্ষে।  চাইনার মতো দেশগুলিতে বৃহৎ সংখ্যক জনগণকে ভ্যাকসিন(1) দেওয়া সত্ত্বেও  সংক্রমণ পিছু হঠে নি । পরিস্থিতি এতটাই গুরুতর যে চীনা কর্তৃপক্ষের মধ্যেও কিছু কণ্ঠস্বর ভ্যাকসিনের "অপর্যাপ্ত" কার্যকারিতা স্বীকার করতে বাধ্য হয়েছে। চীন এবং অন্যান্য বেশ কিছু দেশের মিথ্যা তথ্য সত্ত্বেও সা

আমাদের কমরেড কিষণের প্রতি শ্রদ্ধা

২০২০ সালের ২৬ শে মার্চ সারা বিশ্ব যখন কোভিড ১৯ এ আক্রান্ত  তখনই কমরেড কিষণের মৃত্যুতে  আই. সি. সি  র সঙ্গে যুক্ত  সকলেই এক বেদনাঘন অবস্থার সম্মুখীন হলাম। তাঁর মৃত্যু 'আই সি সি ' র কাছে যেমন বিশাল ক্ষতি,  তেমনি ' আই. সি. সি' র ভারতীয় অংশের কাছেও সমান ক্ষতি । কিষণের অভাব আমরা  সবাই গভীর ভাবে অনুভব করব। আই সি সি র কর্মকান্ডে কিষণের অবদান অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত  কিষণ ছিলেন একজন লড়াকু  যোদ্ধা ।

Covid-19 pandemic: সর্বাত্মক পুঁজিবাদী বর্বরতা অথবা প্রলেতারিয় বিশ্ববিপ্লব

প্রতিদিন হাজারো মানুষ মারা যাচ্ছে। হাসপাতালগুলিতে নাভিশ্বাস অবস্থা। তারা ভয়ানক দ্বিধায় আছে যে, অসুস্থদের মধ্যে কে আগে চিকিৎসা পাবে, তরুণরা নাকি বৃদ্ধরা ? স্বাস্থ্যকর্মিরা নিজেরাই সংক্রমিত, অবসন্ন এবং মৃত্যুপথযাত্রী। সর্বত্রই চিকিৎসা সরঞ্জামের অভাব। প্রতিটি দেশের সরকার এখন ‘ভাইরাসের বিরুদ্ধে যুদ্ধ’, ‘জাতীয় অর্থনীতির স্বার্থ’ ইত্যাদির দোহাই দিয়ে নিজেদের মধ্যে মারাত্মক প্রতিযোগিতায় লিপ্ত হয়েছে। অর্থনৈতিক বাজার নিম্নমুখী। কোন দেশ কার মাস্ক চুরি করছে তাই নিয়ে আধিভৌতিক তরজা চলছে। ইতিমধ্যে দশ মিলিয়ন লোক বেকারত্বের নরকে নিক্ষিপ্ত হয়েছে। সরকার এবং তার পোষা মিডিয়ার মিথ্যাচারের বন্যা অব্যাহত। এটাই হচ্ছে বর্তমান পৃথিবীর ভয়ানক হকিকত। ১৯১৮-১৯ সালের ভয়ানক স্প্যানিস ফ্লুর পরে সব থেকে ভয়ঙ্কর স্বাস্থ্যসংকট এই করোনা মহামারী। যদিও সেই সময়ের থেকে আজকের বিজ্ঞান অভূতপূর্ব উন্নতি সাধন করেছে। প্রশ্ন হচ্ছে, এ রকম বিপর্যয় কেন? কীভাবে এমন ঘটলো?

বর্তমানে ফ্যাসিজমের বিপদ আছে কী? (Is there a danger of fascism today?)

গত ৩০শে জুন ২০১২-য় প্যারিসে আইসিসির একটা পাবলিক মিটিং অনুষ্ঠিত হয়। আলোচনাটা শুরু করতে এবং তা এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার সুবিধার্থে আমরা একটি লিখিত প্রেজেনটেসন্‌ রাখি।  বর্তমান প্রবন্ধটা তার ওপর ভিত্তি করে লিখিত।

অতি দক্ষিণপন্থীদের নির্বাচনী সাফল্য কিছুসময় ধরে ফ্যাসিজমের উত্থানের আতঙ্ক ছড়াচ্ছে। সত্যি বলতে কি,  প্ররোচনামূলক, অন্য দেশের প্রতি তীব্র ঘৃণা(Xenophobic) ছড়ানো এবং উগ্র জাতিবিদ্বেষী(racist) বক্তব্য দিয়ে এই রাজনৈতিক দলকে আলাদাভাবে চেনা যায়।...

৩০ শে জুন: সময় এসেছে আমাদের লড়াইয়ের নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতেই তুলে নেওয়ার!

শিক্ষা, সরকারী অফিস ও স্থানীয় প্রশাসনিক প্রতিষ্ঠানের প্রায় দশলক্ষ শ্রমিক ৩০শে জুন(২০১১) ধর্মঘটের প্রস্তুতি নিচ্ছে কেন? সেই একই কারণে যে কারণে ২৬শে মার্চ পাঁচলক্ষ শ্রমিক শ্রমিক লন্ডনের রাজপথে মিছিল করেছিল; সেই একই কারণে যে কারণে গত শরতে ইউনিভার্সিটি এবং স্কুলের দশহাজার ছাত্রছাত্রী মিছিল, জমায়েত ইত্যাদির মধ্যে দিয়ে আন্দোলনে সামিল হয়ে ছিল। জীবন যাত্রার ওপর সরকারের অন্তহীন আক্রমণে শ্রমিকেরা জেরবার।

কমনওয়েলথ গেমস ও শ্রমিক-শোষণের তীব্রতার নগ্নরূপ

পরিশেষে বলা দরকার, যেমনটা হয়েছিল বেজিঙ অলিম্পিকে, যেমনটা হয়েছিল দক্ষিণ আফ্রিকা বিশ্বকাপে ঠিক তেমনিভাবেই দিল্লির বস্তিবাসীদের উচ্ছেদ করা হয়েছিল।....

দক্ষিণ কোরিয়ার শাসকগোষ্ঠী গনতন্ত্রের মুখোস ছিঁড়ে ফেলছে

আমরা সদ্য কোরিয়া থেকে খবর পেয়েছি যে সোস্যালিস্ট ওয়ারকারস লীগ অফ কোরিয়া/ SAnorunর আটজন সদস্যকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে এবং দক্ষিণ কোরিয়ার কুখ্যাত রাষ্ট্রীয় সুরক্ষা আইনে বিচারাধীন অবস্থায় আটক রাখা হয়েছে। আগামী ২৭শে জানুয়ারী তাদের সাজা ঘোষণা করার কথা।

এতে কোন সন্দেহ নেই যে এটা রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রনোদিত বিচার এবং শাসকশ্রেণি যাকে বিচার বলে থাকে তার হাস্যকর প্রহসন ছাড়া কিছু নয়। এই প্রসঙ্গে তিনটি তথ্যের উল্লেখ করা যেতে পারে।...

ওবামা প্রশাসনের বিদেশনীতি - বন্ধুত্বের মুষ্টি‍ ! (Obama Administration's Foreign Policy—the fist of friendship)

 আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ বর্তমানে শত্রুদেশএবং তথাকথিত মিত্রদেশ উভয়দিক থেকেই একইরকমভাবে সমস্যায় জর্জরিত। বুশ প্রশাসনের একলা চলো নীতির পরবর্‍তী পর্ষায়ে ওবামা নির্বাচিত হওয়ায় ধরে নেওয়া হয়েছিল যে আমেরিকান সাম্রাজ্যবাদ আন্তর্জাতিকক্ষেত্রে তার অভিযানের কলাকৌশলের ভিত আরো মজবুত করতে কিছুটা বিলম্ব করার নীতিই নেবে। ওবামার শান্তিকামী ইমেজ এবং তার প্রশাসনের সহযোগিতা ও বন্ধুত্বের দৃষ্টিভঙ্গী আর কূটনৈতিক প্রকৌশলগুলি আসলে ছিল দ্বিতীয় সারির প্রধান শক্তিগুলিকে নিজের মিলিটারী শক্তির সঙ্গে সংযুক্ত করে শত্রুদেশগুলিকে প্রতিহত করার পদক্ষেপমাত্র। ইন্টারন্যাশনাল রিভিউয়ের ১৩৮ নং সংখ্যায় বলা হচ্ছে, আমেরিকার মূল লক্ষ্যটি আসলে মিলিটারি শক্তির মাধ্যমে বিশ্বজুড়ে ক্ষমতার নেতৃত্ব পুনরুদ্ধার করা। তাই বিভিন্ন দেশের সঙ্গে উত্তরোত্তর কূটনৈতিক সম্পর্‍ক স্থাপনের জন্য ওবামার বন্ধুত্বপূর্ণ প্রস্তাবগুলি তাৎপর্ষপূর্ণভাবে এই উদ্দেশ্যপ্রণোদিত বিলম্বের লক্ষ্যেই পরিকল্পিত হয়েছিল যাতে আগামীদিনে যে কারোর যে কোন বিষয়ে অনিবার্ষ সামরিক হস্তক্ষেপ নিশ্চিত করা যায়। বর্তমানে সাম্রাজ্যবাদী প্রয়োজনেই আমেরিকাকে বিভিন্ন দেশে তার সামরিক বাহিনীকে ছড়িয়ে রাখতে হয়েছে। আফগানিস্তান ও ইরাকে যুদ্ধ করতে করতে তার বাহিনী এতটাই ক্লান্ত হয়ে পড়েছে যে তার পক্ষে এখনই আর কোন নতুন যুদ্ধে লড়া সম্ভব নয়।

ইন্টারন্যাশানাল কমিউনিস্ট কারেন্টের প্যান এশিয়ান কনফারেন্স ফেব্রুয়ারি ২০১০ (Pan Asian Conference of the ICC February 2010)

২০১০-র ফেব্রুয়ারির মাঝামাঝি সময়ে আইসিসি তার এশিয়ার বিভিন্ন দেশে অবস্থিত সেকসনগুলোকে নিয়ে একটি সম্মেলন করে। সম্মেলনে ফিলিপাইন্স, তুর্কি এবং ভারতের সেকসনগুলোর প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন। এছাড়া ভারতের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আইসিসির প্রতি সহমর্মী ছাত্র, যুব এবং শ্রমিকেরা উপস্থিত ছিলেন;.....

কলকাতার চটকল শ্রমিকের সংগ্রামে ইউনিয়নগুলোর অন্তর্ঘাত (স্যাবোটাজ)

কলকাতার নিকটবর্তী ৫২ টি জুটমিলের প্রায় আড়াইলক্ষ শ্রমিক ২০০৯-র ডিসেম্বরের শুরুতেই ধর্মঘটে নামে। মজুরী বাড়ানো, অস্থায়ী ভিত্তিতে নিযুক্ত বহুসংখ্যক শ্রমিকের স্থায়ীকরণ, অবসরকালীন সুযোগ সুবিধা প্রদান এবং জীবনযাপনের মান উন্নয়ন ও কারখানায় নানান অসুবিধাজনক পরিস্থিতির বদল ইত্যাদি নানা দাবীতে এই ধর্মঘট। সর্বোপরি, বকেয়া বেতন আদায়, স্বাস্থ্য বীমা, প্রভিডেন্ট ফান্ড এবং অন্যান্য খাতে কেটে নেওয়া টাকা শ্রমিকদের নামে যথাযথভাবে জমা দিতে বাধ্য করা ছিল এই আন্দোলনের অন্যতম দাবী। দুমাস ধরে চলার পর ১২ই ফেব্রুয়ারী ২০১০ ইউনিয়নগুলো ধর্মঘট প্রত্যাহার করে এবং শ্রমিকদের কাজে যেতে নির্দেশ দেয়, যদিও ম্যানেজমেন্টের কাছ থেকে কোন দাবী আদায়ে তারা সমর্থ হয়নি। বরং এই পরাজয় শ্রমিকশ্রেণির ওপর আর একটা আক্রমণের মঞ্চ তৈরি করল।

পৃষ্ঠাসমূহ

Subscribe to ইন্টারন্যাশানাল কম্যুনিস্ট কারেন্ট RSS