ফ্রান্সজুড়ে সংঘটিত অসংখ্য বিক্ষোভ থেকে পাওয়া শিক্ষা নিয়ে এই লিফলেট
১৭ অক্টোবর, আমাদের ৮ লক্ষ মানুষ রাস্তায় নেমে এসেছিল। আর আবারও আমাদের ওপর টিয়ার গ্যাস ছোড়া হয়েছে, আমাদের ঘিরে ফেলা হয়েছে, লাঠিপেটা করা হয়েছে। কিন্তু এসবের একটি কথাও গণমাধ্যমে দেখানো হয়নি। অন্যদিকে, অল্প কয়েকজনের চালানো ভাঙচুর, লুটপাট আর ধ্বংসযজ্ঞের দৃশ্য প্রতিটি পর্দায় বারবার প্রচার করা হয়েছে।
১. আমাদের সাধারণ সভাগুলোর একটি ছবিও গণমাধ্যম কেন দেখায় না? কেন তারা আমাদের লিফলেট আর কর্মকাণ্ড নিয়ে একটি কথাও বলে না, যার লক্ষ্য হলো এই শ্রমিক আন্দোলনকে সমগ্র শ্রমিক শ্রেণির মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়া? গণমাধ্যম আর সরকার কেন শুধু ভাঙচুর আর লুটপাট নিয়েই কথা বলে? কেন পুলিশ দোকানে হামলার দিকে চোখ বন্ধ রেখে মিছিলগুলোর ওপর নির্বিচারে টিয়ার গ্যাস ছোড়ে,?
উত্তরটা স্পষ্ট। বুর্জোয়া শ্রেণি এবং তাদের নিয়ন্ত্রিত গণমাধ্যম সেই সবকিছুকেই সামনে আনে যা তাদের স্বার্থ রক্ষা করে এবং আমাদের আন্দোলনকে বদনাম করে। আর তারা আড়াল করে রাখে সেই জিনিসগুলোকে, যেগুলো আমাদের আসল শক্তি: সম্মিলিত চিন্তাভাবনা ও সংগঠন, এবং সমগ্র শ্রমিক শ্রেণির সঙ্গে সংহতি ও ঐক্য গড়ে তোলার প্রচেষ্টা। আন্দোলনকে দুর্বল করতে, আমাদের সাধারণ সভাগুলোকে হেয় করতে এবং স্কুল-কলেজের শিক্ষার্থী, শ্রমিক, বেকার ও পেনশনভোগীদের মধ্যে গড়ে ওঠা সংহতির চেতনাকে ভেঙে দিতে পুলিশকে লুটপাটের ঘটনাগুলো উপেক্ষা করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
২. কিন্তু আমাদের অবশ্যই সাহস ও রাজনৈতিক স্বচ্ছতা নিয়ে নিজেদের আন্দোলনের প্রধান দুর্বলতার মুখোমুখি হতে হবে: আপাতত এখনো শ্রমিকরা এই লড়াইয়ে যোগ দেয়নি। এটাও বলতেই হবে যে ট্রেড ইউনিয়নগুলো আন্দোলনকে শ্রমিকদের মধ্যে ছড়িয়ে পড়া থেকে ঠেকাতে তাদের সাধ্যের সবটুকু করেছে, যেমন তারা ‘ডে অফ অ্যাকসন’ এর কর্মসূচির দিন ঘোষণা করেছে... ৫ নভেম্বর! একে নিছক অন্তর্ঘাত ছাড়া আর কিছু বলা যায় না।
ইয়েলো ভেস্টসের আহ্বানে যে বিপুল সমাবেশ ঘটেছে, তার দ্বারা আমাদের বিভ্রান্ত হওয়া উচিত নয়: কর্মক্ষেত্রে কোনো ধর্মঘট হয় নি, কোনো সাধারণ সভাও সংঘটিত হয় নি। ছাত্রদের সাধারণ সভাগুলো সব শ্রমিককে এই আন্দোলনে যোগ দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এবং রেলস্টেশনগুলোতে লিফলেট বিলি করেছে, কিন্তু তারপরও আন্দোলন এখনো ছড়িয়ে পড়তে পারেনি। যে আন্দোলন ছড়ায় না, সে আন্দোলন শেষ পর্যন্ত মরে যায়।
৩. এই দুর্বলতার কারণেই ক্রমশ এই ঝুঁকি বাড়ছে যে এই আন্দোলন হতাশা আর ক্ষোভের বশে ভেসে যাবে, সংখ্যালঘুদের চমকপ্রদ পদক্ষেপের ফাঁদে পড়বে, পুলিশের সঙ্গে সংঘর্ষে লিপ্ত হবে, অথবা ক্ষমতার কোনো প্রতীকী কেন্দ্র দখলের চেষ্টা করবে। এটা একটা ফাঁদ! কারণ ছোট পরিসরের মুখোমুখি সংঘর্ষে রাষ্ট্র সবসময়ই শক্তিশালী পক্ষ। তার হাতে অস্ত্র আছে, জনবল আছে, আদালত আছে।
৪. তাই আমাদের জন্য জরুরি হলো সঠিক পথে অবিচল থাকা:
– যা আমাদের সবাইকে একত্রিত করে, সেই অভিন্ন দাবিকে সামনে আনা: অনিশ্চয়তা ও অনিরাপদ জীবনের বিরুদ্ধে লড়াই।
– বারবার দৃঢ়ভাবে ঘোষণা করা যে লড়াইয়ে আমাদের শক্তি আমাদের ঐক্য ও সংহতি।
– শ্রমিকদের কাছে পৌঁছাতে থাকা, রেলস্টেশনে, কারখানা ও প্রতিষ্ঠানের সামনে, হাসপাতাল ও সরকারি দপ্তরের বাইরে হাজির হওয়া, আমাদের সাধারণ সভাগুলোতে তাদের যোগ দিতে বলা এবং আন্দোলনের অংশ হতে আহ্বান জানানো; যেমনভাবে আজ আবারও জোর দিয়ে বলেছে প্যারিস আন্তঃবিশ্ববিদ্যালয় সমন্বয়, বোর্দোর সাধারণ সভা, কাঁর সাধারণ সভা এবং আরও অনেকে।
– পুলিশি উসকানি বা গণমাধ্যমের অপপ্রচারের ফাঁদে পা দেবেন না, এবং আন্দোলনকে অর্থহীন সহিংসতার দিকে গড়িয়ে পড়া থেকে রক্ষা করুন, কারণ তা আন্দোলনের বিশ্বাসযোগ্যতা নষ্ট করে, তাকে বিভক্ত করে এবং বিচ্ছিন্ন করে ফেলে।
৫. আসুন, এখন থেকেই ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুতি নিই! প্রতিটি সামাজিক আন্দোলনেরই জন্ম আছে, বিকাশ আছে, শেষও আছে। যখন আমাদের আন্দোলন স্তিমিত হতে শুরু করবে, তখন আমরা হতাশ হব না, নিজেদের গুটিয়েও নেব না। এই আন্দোলন ইতোমধ্যেই ইতিহাস সৃষ্টি করেছে। আর এটি আরও বড়, আরও ব্যাপক আন্দোলনের আগমনী বার্তা বহন করছে! আগামী মাসগুলোতে আমাদের সেগুলোর জন্য প্রস্তুত হতে হবে। সময় এলে লড়াইকে এগিয়ে নিয়ে যেতে এবং নতুন করে শুরু করতে, আসুন আমরা আলোচনা চক্রে একত্রিত হই, আন্দোলনের শক্তি ও দুর্বলতার হিসাব-নিকাশ করি, পারস্পরিক সম্পর্ক গড়ে তুলি এবং নিজেদের সংগঠিত করি।
ভবিষ্যৎ শ্রেণিসংগ্রামেরই!
আন্তর্জাতিক কমিউনিস্ট কারেন্ট
২০ অক্টোবর ২০২৬
অনুবাদের উৎস: What makes us strong… [https://en...-us-strong]